রাতে বাইক চালানোর টিপস

রাতে বাইক চালানোর টিপস

 

দিনের উজ্বলতার বিপরিত হলো রাত। রাত মানেই অন্ধকার আর অন্ধকার মানেই বিপদের সম্ভবনা বেশি। খুব স্বাভাবিক ভাবেই দিনের আলোর থেকে রাতের আধারে বাইক চালানো একটু বেশি কষ্টকর। আমাদের দেশে এমনিতেই রাস্তার আবস্থা তেমন সুখকর নয়, একই সাথে রাতের আলোর ঘাটতি তো রয়েছেই। আর তাই সতর্কতার প্রয়োজনও পড়ে বেশি। আসুন জেনে নেই রাতের বেলায় বাইক চালানোর প্রয়োজনীয় কিছু টিপস-

শহরে
রাতের শহুরে রাস্তায় বাইক চালানোর সুবিধা হলো রাস্তায় রোডল্যাম্প থাকে। অসুবিধা হলো গাড়ীর আধিক্য। আর তাই দিনের আলোর থেকে রাতের বেলাতে বাইক চালাতে একটু বেশিই কষ্টকর। এরপরেও কষ্ট ও রিস্ক কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব যদি আমরা নীচের জিনিস গুলো খেয়াল করে চলি-

হেডলাইট: রাতের বেলা হেডলাইটকে বাইকারের “লাইফ লাইন” বলা হয়ে থাকে। শহরের মধ্যে রাতের বেলা হেডলাইটের আলো নীচু করে রাখতে হয়, এতে কাছের রাস্তা দেখতে যেমন বেশি সুবিধা হয় তেমনি সামনে থাকা আসা চালকের চোখেও আলো লেগে সে কষ্ট পায় না।

স্পীড: নিরাপদ বাইকিং এর জন্য স্পীড একটি গুরুত্বপূর্ন জিনিস। বেশি স্পীড মানেই বেশি ঝুকি এটি নিশ্চিত। স্পীড ও রাত ঝুকির পরিমান অনেক বাড়িয়ে দেয়। নিজের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থেই রাতের বেলাতে দিনের থেকে কম স্পীডে বাইক চালানো উচিত।

গ্রামে
যদিও গ্রামের রাস্তায় শহরের মতো ভিড় বা গাড়ীর আধিক্য তেমন থাকেই না, কিন্তু অন্ধকার, সরু বা ভাংগা রাস্তা ইত্যাদি বিপদের কারন হয়ে দাড়ায়। বিশেষকরে বর্ষাকালে রাতের বেলা কাদার রাস্তায় বাইক চালানোর মতো যন্ত্রনার কাজ আর হতেই পারে না।

রাতে গ্রামের রাস্তায় অবশ্যই হেলমেট পরা উচিত। নিদেনপক্ষে চোখে চশমা। কেননা রাতে হেডলাইটের আলোতে আকৃষ্ট হয়ে অনেক পোকা মাকড় বাইকের দিকে ছুটে আসে।সেগুলো চোখে লাগতে পারে। গ্রামের রাস্তা সাধারনতই একটু খারাপ থাকে তাই গর্ত বা এই জাতীয় জিনিস অনেক সময়েই হেডলাইটের আলোতে ভালোভাবে বোঝা যায় না, তাই বেশি সতর্ক থাকা দরকার।

বৃষ্টির দিনে গ্রামের মাটির রাস্তা হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। কাদাযুক্ত পিচ্ছিল রাস্তা বাইকের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। তাই একান্তই প্রয়োজন না হলে বর্ষার রাতে বাইক নিয়ে বের না হওয়াই ভালো।

হাইওয়ে
রাতের হাইওয়ের দুটি দিক আছে, একটি বেশ ভালো, তেমনি আরেকটি বেশ খারাপ।ভালো দিক হলো রাস্তা দিনের তুলনায় অনেক ফাকা থাকে তাই অনেকটাই শান্তিমতো বাইক চালানো যায়, খারাপ দিক হলো বিপরিত দিক থেকে গাড়ীর আলো চোখে লাগে, রাস্তার খারাপ অংশগুলো অনেক সময়েই চোখে পড়ে না, রাস্তার বাকগুলো নিরাপদ থাকে না, অনেক বেপরোয়া ড্রাইভার বিপদজনকভাবে বাইক চালায়। বেশিদূরের জিনিসও তেমন চোখে পড়ে না, যেটা দিনের বেলাতে সমস্যা হয় না।

রাতের হাইওয়েতে চলতে অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করুন, এবং সেটি উজ্বল লাল রং এর হলে ভালো। কেননা অন্য গাড়ীর আলো আপনার হেলমেটে পড়লে অনেক দূর থেকেই আপনাকে দেখা যাবে যেটি অন্য রং এ হবে না, বিশেষকরে কালো রং এর হেলমেট রাতের বেলাতে পরাই উচিত নয়। হেলমেটের সামনের গ্লাস যেনো রংগীন না হয়, এতে দেখতে সমস্যা হয়।

রাতে বাইকের লাইট গুলোর ব্যবহার অনেক হয়ে থাকে। সামনে দেখা এবং অন্য গাড়ীকে ওভারটেক করা ইত্যাদিতে হেডলাইট ব্যবহার হয়। লেইন পরিবর্তন বা মোড় নিতে দুই পাশের হলুদ বাতি ব্যবহার হয়। পেছনের লাল টেইলল্যাম্প পেছনের গাড়ীর জন্য সতর্কবার্তা থাকে। কাজেই রাতে বাইক চালাতে হলে বাইকের লাইটগুলোর ব্যবহার জানতে হবে।

পাসিং লাইট: রাতে কোনো গাড়ীকে ওভারটেক করার সময় সাধারনত হর্ন না দিয়ে হেডলাইটের আলোকে হাই-লো করে সামনের গাড়ীকে জানান দিতে হয় আপনি ওভারটেক করতে ইচ্ছুক।

হলুদ নির্দেশক লাইট: গাড়ীর দুই পাশে থাকে ৪টি হলুদ বাতির কাজ হলো অন্য গাড়ীকে এটি বোঝানো যে আপনি লেইন পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন বা মোড় নিতে চাচ্ছেন। যেদিকে যেতে চান সেদিকের লাইট জ্বালাতে হবে।

ফগ লাইট: শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে গাড়ীতে ফগ লাইট খুবই কাজে লাগে। যদিও আমাদের দেশে বাইকে আলাদাভাবে ফগ লাইট লাগানোকে নিয়মসিদ্ধ মনে করা হয় না। অথচ এটি সবার জন্যই উপকারী।

রিফ্লেক্টর: বাইকের বিভিন্ন জায়গায় যেমন হেডলাইটের উপরে, লুকিং মিররের বিপরিতে, এলয় হুইলের চারপাশে রিফ্লেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে, এতে অনেক দূর থেকেও অন্য গাড়ীর ড্রাইভার আপনার অবস্থান বুঝতে পারবে।রিফ্লেক্টরসহ উইন্ডব্রেকার অথবা ক্রসবেল্ট পরতে পারেন।

নিরাপদে বাইক চালান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here